Ticker

6/recent/ticker-posts

Advertisement

Responsive Advertisement

রাবণ কাটা উৎসব"

 মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুরের প্রাচীন ঐতিহ্য "রাবণ কাটা উৎসব"----

--------------++++--------------+++

বিজয়া দশমীর দিন দেবী দুর্গার বিসর্জনের সাথে সাথে আপামর বঙ্গবাসীর মন বেদনা কতর হয়ে ওঠে. আনন্দ উৎসবের রেস স্তব্ধ হয়ে আগামী বছরের জন্য মন প্রতীক্ষা করতে থাকে। কিন্তু মল্লরাজধানী বিষ্ণুপুরে  এই উৎসবের রেস থাকে দ্বাদশী পর্যন্ত। দশমী থেকে দ্বাদশী এই তিনদিন বিষ্ণুপুরবাসী মেতে উঠে রাবণ কাটা উৎসবে। মল্ল রাজাদের আমল থেকে প্রাচীন রীতি চলে আসছে। বিজয় দশমীর দিন ভারতবর্ষের অনেক জায়গায় রাবণ বধ হয়। রাবণের বিশাল মূর্তি করে অন্যায়, অসত্য, পাপ এর প্রতীক রাবণের মূর্তি পোড়ানো হয়। বিষ্ণুপুরের রাবণ কাটা উৎসব সম্পূর্ণ আলাদা।


মল্ল রাজাদের আমলে শুরু হওয়া দুর্লভ " রাবণ কাটা নাচ" এই প্রাচীন ঐতিহ্য আজও বিষ্ণুপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। বিষ্ণুপুরের কাঠানধারে রয়েছে রঘুনাথ জিউ এর মন্দির ।এই মন্দিরে  রাম, সীতা, লক্ষণ এর  বিগ্রহ পূজিত হয়। এই মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় রাবণ কাটা নাচ। নাচের বিষয়বস্তু রাম রাবণের যুদ্ধ ও অবশেষে রাবণ বধ। বিজয়া দশমীর দিন রঘুনাথ জিউ এর পুজোর পর শিল্পীরা অনুষ্ঠান শুরু করেন। প্রথম দিন কুম্ভকর্ণের বধ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। একাদশীর দিন শিল্পীরা শহরের পথে বেরিয়ে পড়েন ।এই দলে থাকে হনুমান , জাম্বুবান,বিভীষণ ও সুগ্রীব।সাথে থাকে কয়েকজন বাজন্ দার ।বাজনা তালে তালে শিল্পীরা রাবন কাটা নাচ পরিবেশন করেন। রাবন কাটা দলের শিল্পীদের পোশাক খুবই অদ্ভুত ।গায়ে থাকে ফুলহাতা কোট  আর পাজামা ।পোশাকের সাথে লাগানো থাকে মোটা পাটের  দড়ির লোম। মাথায় থাকে গামার কাঠের তৈরি মুখোশ ।শিল্পীদের এই অদ্ভুত বেশভূষা  দেখে বাচ্চারা খুবই ভয় পায় ।দুদিন সাড়া শহরে বিভিন্ন পাড়ায় নাচ পরিবেশন এর পর দ্বাদশীর দিন হাজির হয় রঘুনাথ জিও মন্দিরের  সামনে।সেখানে ট্রাক্টর উপরে রাখা থাকে রাবণের বিশাল  মাটির পুতুল। এখানে কিছুক্ষণ নৃত্য পরিবেশনের পর হনুমান তালোয়াল দিয়ে রাবণের গলা কেটে রাবণ কাটা উৎসবের সমাপ্তি  করে। উৎসব দেখার জন্য প্রচুর মানুষ ভিড় করেন।আগে মল্ল রাজাদের অনুকূলে যে জাক জমক করে রাবণ কাটা উৎসব হতো সেই জৌলুশ আর নেই।দিন দিন এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতি অবলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে.


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ